গ্রাম্য সালিশির ন্যায় বিচারে প্রতারকের দখল থেকে বাড়ি ফিরে পেল মালিক

দীর্ঘ তিন বছর পর গ্রাম পঞ্চায়েতের এবং গ্রামবাসীর কঠোর ভূমিকায় অবৈধ দখলমুক্ত হলো প্রয়াত শিক্ষকের বাড়ি।

Sep 30, 2024 - 23:44
 0  54
গ্রাম্য সালিশির ন্যায় বিচারে প্রতারকের দখল থেকে বাড়ি ফিরে পেল মালিক
গ্রাম পঞ্চায়েতের বিচারে প্রকৃত মালিক ফিরে পেল নিজ বাড়ি।ছবি:- নিজস্ব

দ্যা ফ্যাক্ট :- দীর্ঘ লড়াই শেষে নিজের বাড়ি ফিরে পেলেন প্রকৃত মালিক। তিন বছর পর শর্তভঙ্গকারী ভাড়াটিয়ার দখল থেকে ৩ ঘণ্টার মধ্যে বাড়ি মুক্ত করে প্রকৃত মালিকের হাতে সঁপে দিল গ্রাম পঞ্চায়েত এবং গ্রামবাসী। ঘটনাটি বামুটিয়া আরডি ব্লকের অন্তর্গত উত্তর বামুটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বড় আমতলীতে।

প্রায় ১০ বছর আগে উত্তর বামুটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার অন্তর্গত বড় আমতলী এলাকায় প্রয়াত শিক্ষক মনোরঞ্জন বিশ্বাসের ছেলে সন্দীপন বিশ্বাস ঘর ভাড়া দিয়েছিলেন এলাকার জলিলপুর গ্রামের বাসিন্দা জিতেন্দ্র চৌধুরীকে। মাসিক ৫০০ টাকার বিনিময়ে জিতেন্দ্র চৌধুরী ঘর ভাড়া নিয়েছিলেন। করা হয়েছিল কোর্ট এগ্রিমেন্ট। বাড়ির মালিক সন্দীপন বিশ্বাস বহিঃরাজ্যে থাকেন। এই সুযোগে ভাড়াটিয়া জিতেন্দ্র চৌধুরী এই বাড়ি অবৈধভাবে নিজের নামে করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। এই বিষয়টি মালিকের গোচরে আসতেই ভাড়াটিয়াকে বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেন। এতে কাজ না হওয়ায় দেওয়া হয় লিগ্যাল নোটিশ। এরপর ভাড়াটিয়া জিতেন্দ্র চৌধুরী লিখিতভাবে প্রতিশ্রুতি দেন যে, তিন মাসের মধ্যেই বাড়ি ছেড়ে দেবেন। কিন্তু প্রায় ১৪ মাস অতিবাহিত হলেও তিনি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি। এমনকি প্রায় দুই বছর যাবৎ ভাড়ার টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেন। অবশেষে বাড়ির মালিক সন্দীপন বিশ্বাস হতাশ হয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতের শরণাপন্ন হন। নিয়ম মোতাবেক গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয় সালিশি সভার। এই সভায় উত্তর বামুটিয়া পঞ্চায়েত, পূর্ব বামুটিয়া পঞ্চায়েত এবং পশ্চিম বামুটিয়া পঞ্চায়েত এলাকার জনপ্রতিনিধি, নেতৃত্ব এবং গ্রামবাসীরা উপস্থিত ছিলেন। এই সভায় সিদ্ধান্ত হয়, যেহেতু দীর্ঘদিন বাড়ি ছাড়ার জন্য ভাড়াটিয়াকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, তাই তাকে মাত্র তিন ঘণ্টা সময় ধার্য করে দেওয়া হয়েছে বাড়ি ছাড়ার জন্য। এলাকার জনপ্রতিনিধি এবং গ্রামবাসীদের প্রবল চাপের মুখে মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে বাড়ি ছেড়ে জিনিসপত্র নিয়ে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হন প্রতারক জিতেন্দ্র চৌধুরী। এই ঘটনায় যেমন বাড়ির মালিক তার নিজস্ব সম্পত্তি ফিরে পেয়েছেন, তেমনি এলাকায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় খুশি হয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow