গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে বাজার পরিকাঠামোয় জোর দিয়েছে সরকার: কৃষি মন্ত্রী
দক্ষিণ জেলাতে কৃষি দপ্তর থেকে নির্মিত বাজার স্টল ও কমপ্লেক্সে উদ্বোধন করলেন কৃষি দপ্তরের মন্ত্রী রতন লাল নাথ। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেছেন মন্ত্রী।
দ্যা ফ্যাক্ট :- বর্তমান রাজ্য সরকারের মূল লক্ষ্য মানুষকে স্বনির্ভর করে তোলা। সেই লক্ষ্য পূরণে রাজ্যজুড়ে ৬০টি নতুন কৃষি বাজার নির্মাণে ১৫৮ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। উন্নয়নমূলক কাজে সরকার কোনও রাজনৈতিক রং দেখে না তার জন্য সব গুলি বিধানসভা কেন্দ্রে কৃষি বাজার গড়ে তোলা হচ্ছে। দক্ষিণ জেলার মনপাথর বাজারে একটি নতুন বাজার স্টল ও একটি দ্বিতল বিশিষ্ট বাজার কমপ্লেক্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বললেন কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী রতন লাল নাথ।
এদিন মন্ত্রী শান্তিরবাজারে প্রাথমিক গ্রামীণ বাজারের অবকাঠামো উন্নয়নের কাজও উদ্বোধন করেন। পরে দক্ষিণ জেলার বীরচন্দ্র মনুতে অবস্থিত সেন্টার অফ এক্সিলেন্স ভেজিটেবলস কেন্দ্রটি পরিদর্শন করে । মন্ত্রী জানান গোটা দেশে এমন মোট ৬০টি সেন্টারের মধ্যে আমাদের রাজ্যে রয়েছে ২ টি সেন্টার । একটি সিপাহীজলার জুমেরঢেপায়। অন্যটি দক্ষিণ জেলার বীরচন্দ্র মনুতে।
তিনি বলেন এই কেন্দ্রে ইজরায়েল ও ভারতীয় আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে সারা বছর বিভিন্ন প্রজাতির উন্নত মানের সবজি চারা উৎপাদন করা হয়।পাশাপাশি সবজি চাষ করা হয় । বিশেষ করে মাটি ছাড়াই চারা উৎপাদনের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এখানে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়।
পরবর্তীতে মন্ত্রী জানান, নতুন বি ভি জি রাম জি আইন ২০২৫ সকলের জন্যই উপকারী হবে। আগে এমজিএনরেগার অধীনে কর্মদিবস ছিল ১০০ দিন। নতুন আইনের ফলে তা বেড়ে হয়েছে ১২৫ দিন। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার দেবে ১০ শতাংশ এবং বাকি ৯০ শতাংশ দেবে কেন্দ্র সরকার। অন্য রাজ্যগুলিতে কেন্দ্র দেবে ৬০ শতাংশ এবং রাজ্য দেবে ৪০ শতাংশ।
তিনি আরও বলেন ২০১৮ সালের আগে সাত বছরে তৎকালীন সরকার মাত্র ২০ কোটি টাকা ব্যয় করেছিল । কিন্তু ২০১৮ সালের পর থেকে বর্তমান সরকার মোট ৩০৩ কোটি টাকা ব্যয় করেছে নতুন বাজার স্টল এবং বাজার কমপ্লেক্সের জন্য।
মন্ত্রী শ্রী নাথ বলেন চলতি বছর আরও বাজার স্থাপন করা হবে এবং ৬০টি নতুন বাজারের জন্য ১৫৮ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। উন্নয়নমূলক কাজে আমরা কোনও রাজনৈতিক ভেদাভেদ দেখি না। আমাদের মূল লক্ষ্য ঘরে ঘরে কর্মসংস্থান পৌঁছে দেওয়া।
মন্ত্রী রতন লাল নাথ আরো বলেন আমরা শুধু কথা বলি না, কাজ করে দেখাই। আমাদের সময়ে ১ লক্ষ ৮ হাজার ‘দিদি’ লক্ষপতি দিদি হয়েছেন, যার মধ্যে দক্ষিণ ত্রিপুরায় সংখ্যাটি সর্বাধিক। কোনও সরকারই প্রত্যেককে সরকারি চাকরি দিতে পারে না। তাই আমরা কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছি এবং মানুষকে স্বনির্ভর করে তুলছি। বর্তমান রাজ্য সরকারের ফলে রাজ্যের মহিলারা স্বাবলম্বী হচ্ছেন এবং উপার্জন করছেন।
What's Your Reaction?