চুরির অপবাদ থেকে মুক্তি পেতে আত্মঘাতী প্রসেনজিৎ
মোহনপুরের হাসপাতাল চৌমুহনীতে মা-বাবাহিন প্রসেনজিৎ মোদককে চুরির অপবাদ দেয় তার জেঠু জেঠিমা সহ খুড়তুতো বোন এবং বোনের জামাইরা। অবশেষে এই কলঙ্ক থেকে মুক্তি পেতে অন্তিম পথে হাঁটলেও প্রসেনজিৎ।
দ্যা ফ্যাক্ট :- "প্রসেনজিৎকে মরিয়া প্রমাণ করিতে হইল সে চুরি করে নাই"। মোহনপুরের হাসপাতাল চৌমুনীতে প্রসেনজিৎ মোদক সম্প্রতি প্রয়াত হয়েছেন। তার খুড়তুতো বোন এবং জেঠিমা ও জেঠুর দেওয়া চুরির অপবাদ সইতে না পেরে সে অন্তিম পথ বেছে নিয়েছে বলে অভিযোগ। রেখে গেছে সুইসাইড নোট। ইতিমধ্যেই ৮ অভিযুক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে সিধাই থানাতে।
প্রসেনজিৎ মোদক তার ঘরে একাই থাকতো। কিছুদিন পূর্বে তার বাবা এবং মা প্রয়াত হয়েছেন। তবে তার জেঠু ক্ষিতীশ্মধক এবং তার জেঠিমা সোমা মোদকের সাথে তার ছিল যথেষ্ট সখ্যতা। সেই সুবাদে সুমামোদক উনার তিন মেয়ে মন্টি মোদক, জন্ডি মোদক এবং চম্পা মোদকের সমস্ত স্বর্নালংকার প্রসেনজিৎ মোদকের ঘরে নিয়ে রেখেছিলেন বলে জানিয়েছেন সোমা। কিন্তু কিছুদিন পূর্বে সে স্বর্ণের জিনিস তার ঘর থেকে নিয়ে আসেন তার জেঠিমা। বিকেল আনুমানিক ৩.৩০ নাগাদ নিয়ে এসেছেন স্বর্ণের জিনিসগুলো। রাত ১১ টা নাগাদ তার জেঠিমা এবং জেঠু স্বর্ণেরের ব্যাগে সমস্ত অলংকার নেই বলে অভিযোগ করেন। এমনকি প্রসেনজিৎকে চোর বলে আখ্যায়িত করেছেন বলে অভিযোগ। সকাল হতেই তিন বোন বোনের জামাই সমেত জেঠু এবং জেঠিমা প্রসেনজিৎকে অত্যন্ত বাজেভাবে গালিগালাজ করে বলে অভিযোগ করেছেন তার অপর খুরতুতো ভাই দীপ্তনু মোদক। এদের তরফে প্রসেনজিৎ এর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে প্রয়োজনে দোকান জমি দেহের অঙ্গ বিক্রি করে হলেও এদের স্বর্ণ ফেরত দিতে হবে। এই অবস্থাতে প্রসেনজিৎ নিজেই পুলিশের কাছে গিয়ে অভিযোগ করে। এরই মধ্যে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। তাকে নিয়ে যাওয়া হয় মোহনপুর হাসপাতালে। সেখান থেকে অবস্থার অবনতি হওয়ায় স্থানান্তর করা হয়েছে জিবিপি হাসপাতালে। যদিও পরিবারের লোকেরা তাকে নিয়ে যায় হাঁফানিয়ায়। সেখানেই প্রয়াত হয়েছে সে। ধারণা করা হচ্ছে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড খেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে প্রসেনজিৎ। তবে যাবার আগে তার মোবাইলের পেছনে একটি সুইসাইড নোট রেখে গেছে সে। এই ঘটনার পর সিধাই থানাতে মন্টি মোদক স্বামী উত্তম বর্ধন, জন্টি মোদক স্বামী সুরজিৎ কর্মকার,চম্পা মোদক, ক্ষিতীশ মোদক এবং সোমা মোদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। প্রসেনজিৎ জীবিত অবস্থায় সুইসাইড নোটের মাধ্যমে নিজেকে নিরপরাধ বলে দাবি করে গেছে। প্রশ্ন উঠছে গোটা ঘটনা মা-বাবা হিন ছেলের কাছ থেকে অর্থ আদায় করার কোন চক্রান্ত ছিল নাতো?
What's Your Reaction?