প্যাক্সের টাকা আত্মসাৎ করল ম্যানেজার, ক্ষমা চাইলেন প্রকাশ্যে
বামুটিয়া ব্লকের অন্তর্গত লক্ষ্মীলোঙ্গা গান্ধীগ্রাম প্যাক্স লিমিটেডের প্রায় ১৯ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে ম্যানেজার মোহন দাসের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার সাধারণ সভাতে এই টাকার লিখিত কোন হিসাব দেখাতে পারেনি ম্যানেজার। অবশেষে প্রকাশ্যে সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে এই টাকা নিজ দায়িত্বে পরিশোধ করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
দ্যা ফ্যাক্ট :- দুর্গা বাড়ির চা বাগানের পর বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের তথ্য উঠে এলো লক্ষ্মীলোঙ্গা গান্ধীগ্রাম প্রাথমিক কৃষি সমবায় সমিতি লিমিটেডের। প্রায় ১৯ লক্ষ টাক নয়ছয় করেছে এই কোঅপারেটিভ সোসাইটির ম্যানেজার মোহ নদাস। বৃহস্পতিবার জনগণের চাপের মুখে এই টাকার দায়ভার সম্পূর্ণ গ্রহণ করেছেন তিনি।
২০১৮ সালের পর কোঅপারেটিভ সোসাইটি পরিচালিত দুর্গা বাড়ির চা বাগানের নতুন পরিচালন কমিটি গঠন করা হয়। নতুন কমিটি গঠন হওয়ার কয়েক বছরের মধ্যেই বিপুল পরিমাণ আর্থিক ঘোটালা সামনে আসে। কমিটির পদাধিকারীরা সরাসরি আর্থিক অনিয়মের সাথে যুক্ত হয়ে পড়েন। অবশেষে দপ্তর থেকে অ্যাডমিনিস্ট্রেটর নিয়োগ করে বাগানের স্বচ্ছতা পুনরায় ফিরিয়ে আনা হয়।
এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আরো আরেক কোঅপারেটিভ সোসাইটির আর্থিক কেলেঙ্কারি সামনে এলো। বামুটিয়া ব্লকের অন্তর্গত লক্ষ্মী লোঙ্গা গান্ধীগ্রাম প্রাথমিক কৃষি সমবায় সমিতি লিঃ এর নতুন কমিটি গঠিত হয় ২০১৮ সালের পর। বিদায়ী কমিটি প্রায় ৪৭ লক্ষ টাকা রেখে যান সোসাইটিতে। দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর যাবৎ কোন ধরনের এজিএম বা প্রকাশ্য সভা করা হয়নি। এই সোসাইটির ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল মোহন দাসকে। সোসাইটির সদস্য সদস্যা এবং গ্রামবাসীরা বহুবার তাকে বলেছে হিসাব নিকেশ পেশ করার জন্য। কিন্তু কোন ভাবেই রাজি হচ্ছিল না সে। এমনকি দপ্তর থেকে অডিট করতে আসলেও সে অনুপস্থিত থাকে। অবশেষে একপ্রকার চাপের মুখে বৃহস্পতিবার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় সাধারণ সভা করার। ছনমুড়িতে এই সাধারণ সভাতে হিসেব পেশ করতে গিয়ে নিজ মুখে ম্যানেজার মোহনদাস স্বীকার করেন প্রায় ১৯ লক্ষ টাকা উনার হাতে রয়েছে। এই টাকার সমস্ত দায়ভার গ্রহণ করছেন তিনি। এমনকি এই টাকা ধীরে ধীরে পরিশোধ করার ঘোষণা দিয়েছেন জনসম্মুখক্ষে। জনগণের এই টাকা আত্মসাৎ করার দায়ে ক্ষমাপ্রার্থনা করেছেন মোহন।
সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয় আগামী কিছুদিনের মধ্যেই দপ্তরের আধিকারিক ,পূর্ণাঙ্গ কমিটি এবং স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে আলোচনা সভার মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কিভাবে ফিরিয়ে আনা যায় সে বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।
এদিনের এই সভাতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বামুটিয়া পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান দীপক সিংহ, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য দেবজিত দেব, কোঅপারেটিভ দপ্তরের আধিকারিক সহ অন্যান্যরা।
What's Your Reaction?