দেবেন্দ্রনগরে ডাম্পিং স্টেশনের অব্যবস্থায় নাখোশ রাজ্যপাল
ডাম্পিং স্টেশনে আবর্জনা প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র ঘুরে দেখলেন রাজ্যপাল। গোটা ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে সন্তুষ্ট হতে পারলেন না রাজ্যপাল। নির্দেশ দিলেন সঠিকভাবে কাজ করার।

দ্যা ফ্যাক্ট :- ডাম্পিং স্টেশন পরিদর্শন করে দীর্ঘ বছরের অনিয়ম এবং অব্যবস্থায় বিরক্ত রাজ্যপাল। সোমবার দেবেন্দ্রনগরে ডাম্পিং স্টেশন পরিদর্শনকালে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি কয়েক দফায় হাতে হাতে ধরলেন রাজ্যপাল। সাফ নির্দেশ দিলেন, গাফিলতি এবং অজুহাত না দেখিয়ে সঠিকভাবে কাজ করার। এদিন ডাম্পিং স্টেশনের বিভিন্ন মেশিনারি থেকে শুরু করে রেজিস্টার পর্যন্ত খতিয়ে দেখেছেন রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু।
আগরতলা পুর নিগম এলাকার আবর্জনা প্রক্রিয়াকরণের জন্য দেবেন্দ্রনগরে ডাম্পিং স্টেশন গড়ে তোলা হয়েছিল পূর্বতন সরকারের আমলে। সেই থেকে আজ পর্যন্ত বজ্র পদার্থ প্রক্রিয়াকরণ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। বিভিন্ন সময় বহিরাজ্যের বেসরকারি কোম্পানিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আবর্জনা থেকে জৈব সার তৈরি করার জন্য। কিন্তু দেখা গেছে বছরের পর বছর আবর্জনা স্তুপ বৃদ্ধি পেয়েছে। একসময় এই আবর্জনা স্তূপে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছিল। অভিযোগ উঠেছিল, বজ্র পদার্থ প্রক্রিয়াকরণ সঠিকভাবে না হওয়ায় নিজেদের পিঠ বাঁচাতে আবর্জনা স্তূপে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এতসবের পরেও সঠিকভাবে বজ্র প্রক্রিয়াকরণ হচ্ছে না ডাম্পিং স্টেশনে।
সোমবার রাজ্যপাল সরজমিনে এই প্রকল্পটি পরিদর্শন করেছেন। কর্মচারী এবং আধিকারিকরা রাজ্যপালকে কোনভাবে বুঝিয়ে বিদায় দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নাছোড়বান্দা রাজ্যপাল। একে একে সমস্ত বিষয় নিজ চোখে খতিয়ে দেখেছেন। রেজিস্টার থেকে শুরু করে মেশিনের উপর উঠে গোটা প্রক্রিয়া সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন তিনি। ভুল ধরেছেন বহু। নির্দেশ দিয়েছেন, গাফিলতি না করে সঠিকভাবে কাজ করার জন্য।
পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যপাল বলেন, এখানে লেটেস্ট সব মেশিন রাখা রয়েছে, কিন্তু সঠিকভাবে কাজ হচ্ছে না। বৃষ্টির কারণে কাজ হচ্ছে না বলে কর্তৃপক্ষ স্পষ্টীকরণ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন রাজ্যপাল। তবে এখন থেকে সঠিকভাবে কাজ শুরু হবে বলে আশা ব্যক্ত করেছেন তিনি। আক্ষরিক অর্থে সরকারের তরফে এই ডাম্পিং স্টেশনে আবর্জনা প্রক্রিয়াকরণের জন্য কখনো সঠিকভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। শুধুমাত্র বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উপর দায়িত্ব দিয়ে সবাই দায়মুক্ত হতে চেয়েছেন। যার ফলে বছরের পর বছর এই ডাম্পিং স্টেশনে আবর্জনার পাহাড় জমেছে। এখন দেখার বিষয়, রাজ্যপালের নির্দেশ পেয়ে আবর্জনা প্রক্রিয়াকরণে কতটা গতি আসে।
What's Your Reaction?






