অন্যের সন্তানের মা বাপ সেজে কামালঘাট স্কুলের এসএমসির পদে বসার হিড়িক
কামালঘাট উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএমসির চেয়ারে বসার জন্য সমস্ত নিয়মকানুন দেওয়া হলো বিসর্জনে। বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে না এমন শিক্ষার্থীর মা-বাবা চেয়ারম্যান ভাই চেয়ারম্যান সহ বিভিন্ন পদে নিজেদের নাম লিখিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইল বিদ্যালয়ে প্রকৃত অভিভাবকরা।
দ্যা ফ্যাক্ট :- কামালঘাট উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতা। এই লোভে পরের সন্তানের মা বাপ সেজে এসএমসিতে ঢোকার হিরিক লেগেছে। রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী যখন বিদ্যালয় গুলোকে স্বচ্ছতার সাথে পরিচালিত করতে চাইছেন ঠিক তখনই বামুটিয়া বিধানসভার কামালঘাট উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একেবারে নিয়ম বহির্ভূতভাবে নির্মাণ করা হলো এসএমসি। অভিযোগ চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যান যারা রয়েছেন উনাদের পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকজনের সন্তানরা এই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী নয়। এরপরেও উনারা হাতিয়ে নিয়েছেন পদ।
দীর্ঘ বেশ কয়েক মাস যাবত কামালঘাট উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এস এম সি নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। পূর্বের এসএমসির মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও নতুন করে যে এস এম সি তৈরি করা হয়েছিল তাতে ছিল সম্পূর্ণ অবৈধ প্রক্রিয়া। বিশেষ করে এসএমসির চেয়ারম্যান পদে মনোনীত হয়েছিলেন রত্না হালদার উনার কোন সন্তান এই বিদ্যালয়ে নেই। উনার ছেলে ইকফাই ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করছে। অন্যদিকে ভাইস চেয়ারম্যান মনোজ চৌধুরী বিয়ে করেনি। সেই সুবাদে উনার সন্তান থাকার প্রশ্নই উঠে না। অথচ শিক্ষা দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যান পদে যারা আসবেন উনাদের সন্তানরা উক্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়া বাধ্যতামূলক।
এখানেই শেষ হয়নি এসএমসির চেয়ারে বসার প্রতিযোগিতা। এই কমিটিতে রয়েছেন প্রদীপ ঘোষ, শিবেন্দ্র দাস। উনারা দুজনেই বিয়ে করেননি। স্বাভাবিকভাবেই সন্তানরা এই স্কুলে পড়ার প্রশ্নই উঠে না। অন্যদিকে অনিমা দাস উনার ছেলে ইকফাই ইউনিভার্সিটিতে পাঠরত, কমল দাস উনার ছেলে স্বামী বিবেকানন্দ মহাবিদ্যালয়ে পাঠরত এবং অভিজিৎ দাস উনার সন্তান এখনো বিদ্যালয়ে ভর্তি হননি। এই ধরনের লোকগুলোকে নিয়ে সাজিয়ে তোলা হয়েছে কামালঘাট উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএমসি। যতদূর জানা গেছে শুক্রবার এই এস এম সি কে অনুমোদন দেওয়ার জন্য ডিস্ট্রিক্ট এডুকেশন অফিসে পাঠানো হবে। অভিযোগ ক্ষমতা বলে উক্ত ব্যক্তিরা বিদ্যালয়ের মত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালন কমিটিতে চেয়ার দখল করে বসেছে। প্রশ্ন উঠছে এই ক্ষমতাশালীদের কারণে শিক্ষাঙ্গন ভাবে পরিচালিত হবেতো? রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর এই অবৈধ কমিটিকে মান্যতা দেবে তো? কামালঘাট উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। সমস্ত অভিভাবকদের দাবি এই অবৈধ কমিটি বাতিল করে বিদ্যালয়ের প্রকৃত অভিভাবকদের মধ্য থেকে এস এম সি তৈরি করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করুক শিক্ষা দপ্তর। যদিও উক্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অন্যের সন্তানের অভিভাবক সেজে এই চেয়ারগুলো বাগে রাখার চেষ্টা করছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এখন দেখার ক্ষমতা বলে শিক্ষাঙ্গন দখলকারীদের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে মুখ্যমন্ত্রী তরফে কোন হস্তক্ষেপ হয় কিনা।
What's Your Reaction?