সিধাইয়ের অভিচরনে ডাইনি অপবাদে খুন গৃহবধূ, মাটি খুঁড়ে উদ্ধার দেহ, মামলা নিল পুলিশ

ডাইনি অপবাদে চাপিয়ে দিয়ে খুন করা হলো এক গৃহবধূকে। তথ্য প্রমান লোপাট করতে কবর দেওয়া হয় মৃতদেহ। অবশেষে গৃহবধুর বোনের অভিযোগের ভিত্তিতে মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনা সিধাই থানার অন্তর্গত অভিচরণ এলাকায়।

Oct 28, 2025 - 23:43
 0  52
সিধাইয়ের অভিচরনে ডাইনি অপবাদে খুন গৃহবধূ, মাটি খুঁড়ে উদ্ধার দেহ, মামলা নিল পুলিশ
অভিচরণ এলাকায় গৃহবধূকে ডাইনি অপবাদে খুনের ঘটনায় কবর থেকে তোলা হয় দেহ।ছবি:- নিজস্ব

দ্যা ফ্যাক্ট :- ডাইনি অপবাদে খুন গৃহবধূ। গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলানো হয় গাছে। আত্মহত্যা হিসেবে বিষয়টিকে তুলে ধরে মাটি খুঁড়ে দেহ কবর দেওয়া হয়। পাশাপাশি পরিবারের লোকেদের জন্য হুলিয়া জারি করা হয় এই বিষয়ে মুখ খুললে গোটা পরিবারকে পুড়িয়ে মারা হবে। লোমহর্ষক এই ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে সিধাই থানার অন্তর্গত অভিচরণে। 

             গত ২৬ তারিখ অভিচরণের মন চরণ কোবরা পাড়ায় নন্দ রানী দেববর্মা নামে এক গৃহবধূকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। জানা গেছে এই গ্রামেরই অপর এক মেয়ে শারীরিকভাবে অসুস্থ। সে গ্রামের লোকেদের বলেছে নন্দ রানী দেহে ডাইন রয়েছে। তার এই বক্তব্যর ভিত্তিতে গ্রামে বসে সালিশি সভা। এই সভাতে সিদ্ধান্ত হয় নন্দ রানীকে খুন করার। অবশেষে গৃহবধূর বাড়িতে গিয়ে তাকে বেধরক মারধোর করা হয়। পড়ে গলায় কাপড় দিয়ে জালনার মধ্যে ঝুলিয়ে খুন করা হয়েছে তাকে। এই বিষয়টিকে আত্মহত্যা মঞ্চস্থ করতে বাড়ির পাশে একটি গাছে নিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয় তার দেহ। পাশাপাশি পরিবারের লোকেদের হুমকি দেওয়া হয় যদি এই বিষয়ে পুলিশে অভিযোগ করা হয় তাহলে গোটা পরিবারকে পুড়িয়ে মারা হবে। অবশেষে নন্দ রানী মৃত্যু হবার খবর পায় তার বোন তাখিতি দেববর্মা। তিনি অভিযোগ করেন মান্দাই থানায়। ঘটনাস্থলে এসে দেখা যায় এই এলাকাটি সিধাই থানার অন্তর্গত। পরে বিষয়টি সিধায় থানার কাছে হস্তান্তর করা হয়। শুরু হয় মাটি খুঁড়ার কাজ। রাত আনুমানিক সাড়ে আটটা নাগাদ মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে দেহ। দেহ উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় ময়নাতনদের জন্য। ঘটনা স্হলে আসেন পশ্চিম জেলার পুলিশ সুপার অমিত পাঠক। তিনি জানান এই বিষয়ে একটি মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের নাম এসেছে পুলিশের কাছে। গোটা বিষয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করার আশায় দিয়েছেন পুলিশ সুপার। 

অন্যদিকে জানা গেছে নন্দ রানীকে সমাধি দেওয়ার জন্য স্থানীয় কোন নাগরিকরা এগিয়ে আসেনি। ক্যাথলিক চার্চ থেকে লোকেরা এসে উনাকে মাটির নিচে কবর দিয়েছেন। এখানে প্রশ্ন উঠছে চার্চ থেকে যারা নন্দনকে মাটি দিতে এসেছিলেন উনারা কেন বিষয়টি পুলিশকে অবগত করেননি? শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের দাবী অত্যন্ত নৃশংস এই অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশ অতিসত্বর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।

            

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow