তেলিয়ামুড়ায় সৌর মাইক্রোগ্রিডে উপকৃত ৪২ টি পরিবার

যেখানে বিদ্যুতের লাইন পৌঁছায়নি সেখানে সৌর বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে তেলিয়ামুড়ার খাবাকসা গ্রামে এক সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন মন্ত্রী রতন লাল নাথ।

May 10, 2026 - 23:44
 0  10
তেলিয়ামুড়ায় সৌর মাইক্রোগ্রিডে উপকৃত ৪২ টি পরিবার

দ্যা ফ্যাক্ট :- ত্রিপুরার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দিতে সৌর মাইক্রোগ্রিড প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে রাজ্যের বিদ্যুৎ দপ্তর ও ট্রেডা (TREDA)। যেখানে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব নয়, সেখানে সৌরশক্তিনির্ভর মাইক্রোগ্রিডের মাধ্যমে মানুষের ঘরে আলো পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী রতন লাল নাথ।

রবিবার তেলিয়ামুড়া এলাকার অন্তর্গত খাবাকসা কামি গ্রামে সৌর মাইক্রোগ্রিড প্রকল্প এবং কমিউনিটি ভিত্তিক সৌর বিশুদ্ধ পানীয় জল প্রকল্পের উদ্বোধন করেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী জানান, ওই গ্রামে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মোট ৪২টি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ সমস্যায় ভুগছিল। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সেখানে প্রচলিত বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ডিভাইন (PM-DevINE) প্রকল্পের আওতায় সৌর মাইক্রোগ্রিড ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে, পাশাপাশি স্ট্রিট লাইটও স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন এখন আর ওই এলাকার মানুষের বিদ্যুৎ সমস্যা নেই। প্রতিটি পরিবারকে তিনটি করে লাইট এবং মোবাইল চার্জিংয়ের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। শুধু খাবাকসা কামি গ্রামই নয়, ট্রেডার মাধ্যমে রাজ্যের আরও ৩৪৭টি এলাকায় সৌর মাইক্রোগ্রিডের সাহায্যে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী জানান এই প্রকল্পের মাধ্যমে শুধুমাত্র খাবাকসা কামি গ্রামের ৪২টি পরিবার নয়, সমগ্র ত্রিপুরায় মোট ১১,৯৩৩টি পরিবার উপকৃত হয়েছে।

যেখানে বিদ্যুতের খুঁটি বসানো বা বৈদ্যুতিক তার পৌঁছে দেওয়া সম্ভব নয়, সেখানে আমরা মাইক্রোগ্রিডের মাধ্যমে বিদ্যুৎ দিচ্ছি। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানীয় জলের জন্য সৌরশক্তিচালিত কমিউনিটি ড্রিংকিং ওয়াটার প্ল্যান্টও স্থাপন করা হচ্ছে, যাতে মানুষ নিরাপদ পানীয় জল পায়।

সরকারের এই উদ্যোগের ফলে ছাত্রছাত্রীরা এখন রাতে আলোয় পড়াশোনা করতে পারছে। কেরোসিনের প্রদীপের পরিবর্তে সৌরবিদ্যুতের আলো তাদের শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করেছে। এছাড়াও মোবাইল চার্জিং ও টেলিভিশনের সুবিধা পাওয়ায় মানুষ তথ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে আরও বেশি সংযুক্ত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন মন্ত্রীর রতন লাল নাথ।

কমিউনিটি ভিত্তিক সৌর বিশুদ্ধ পানীয় জল প্রকল্প সম্পর্কে ৮০টি ইউনিট স্থাপনের লক্ষ্য মাত্রা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭টির কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও ৩৮টির কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। 

গ্রামের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের কথাও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, মানুষকে স্বনির্ভর করে তুলতে আম, কাঁঠাল, লেবুসহ বিভিন্ন ফলজ গাছের চারা বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে এবং এ বিষয়ে কৃষি দপ্তরের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow